ইমামত জামাআতঃ আলিম এবং মর্যাদাবানদের ইমামতি

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইন্তিকাল করলেন, আনসার সম্প্রদায় বললেন, আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হবে আর তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হবে। তাঁদের নিকট উমর (রাঃ) এসে বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর (রাঃ)-কে আদেশ করেছিলেন, লোকের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করতে? অতএব তোমাদের মধ্যে কার মন খুশি হবে আবূ বকরের অগ্রগামী হতে? তাঁরা বললেন, নাউযূ বিল্লাহ ! আমরা আবূ বকরের অগ্রবর্তী হতে চাই না।

অত্যাচারী শাসকদের সাথে সালাত আদায় করা

আবূল আলিয়া বাররা [১] (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যিয়াদ বিলম্বে সালাত আদায় করল। তারপর ইব্‌ন সামিত (রাঃ) আমার নিকট আসলে আমি তাঁর জন্য একখানা কুরসী পেতে দিলাম। তিনি তার উপর উপবেশন করলেন। আমি তাঁর নিকট যিয়াদের কান্ড বর্ণনা করলাম, তিনি তাঁর ওষ্ঠদ্বয় কামড়ে ধরলেন এবং আমার উরুদেশ চেপে ধরলেন এবং বললেনঃ আমি আবূ যর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তিনিও আমার উরুদেশে হাত মেরেছিলেন যেমন আমি হাত মেরেছি তোমর উরুর উপর এবং বলেছিলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তারপর তিনি আমার উরুতে হাত মারলেন, যেমন আমি তোমার উরুতে হাত মেরেছি। এরপর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেনঃ সালাত যথাসময়ে আদায় করবে। যদি তাদের সাথে সালাত পাও, তবে আদায় করে নিবে কিন্তু একথা বলো না যে, আমি সালাত আদায় করে ফেলেছি, এখন আর আদায় করবো না।

[১] আবূল আলিয়া বাররা (রহঃ)-এর নাম যিয়াদ ইব্‌ন ফায়রূয।

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হয়ত তোমরা এমন লোকের সাক্ষাত পাবে যারা অসময়ে সালাত আদায় করবে। যদি তোমরা তাদের পাও, তাহলে সময়মত সালাত আদায় করবে এবং তাদের সাথে সালাত আদায় করবে এবং তা নফল ধরে নেবে।

কে ইমাম হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি

আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দলের ইমামতি করবে ঐ ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অধিক ভাল পাঠ করে। যদি তারা সকলেই কিরাআতে সমপর্যায়ভুক্ত হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে পূর্বে হিজরত করেছে। যদি তারা সকলেই হিজরতে সমপর্যায়ের হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। যদি তারা সুন্নাহতেও সমপর্যায়ের হয়, তাহলে যার বয়স অধিক, সে ব্যক্তি। আর তুমি কোন ব্যক্তির কর্তৃত্বের স্থানে ইমামতি করবে না। আর তুমি তার আসনে উপবেশন করবে না, হ্যাঁ, যদি তিনি তোমাকে অনুমতি দেন।

বয়োজ্যেষ্ঠকে ইমাম মনোনীত করা

মালিক ইব্‌ন হুয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ এক সময় আমি এবং আমার এক চাচাত ভাই রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম। অন্য এক সময় বলেছেন, আমি এবং আমার এক সাথী রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলে তিনি বললেনঃ যখন তোমরা সফর করবে, তখন তোমরা আযান দিবে এবং ইকামত বলবে, আর তোমাদের ইমামতি করবে, তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড়।

একদল লোকের এমন স্থানে একত্র হওয়া যেখানে সকলেই সমান

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যখন তিন ব্যক্তি একত্র হবে তখন তাদের একজন ইমামতি করবে আর তাদের মধ্যে ইমামতের অধিক হকদার সেই, যে বেশী কুরআন জানে।

যদি দলে শাসক উপস্থিত থাকেন

আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির কর্তৃত্বের স্থানে অন্য কেউ তার ইমাম হবে না। অথবা তার বসার স্থানেও বসা যাবে না। হ্যাঁ, তার অনুমতি পেলে ভিন্ন কথা।

প্রজার ইমামতির সময় শাসক আসলে

সাহল ইব্‌ন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, বনূ আমর ইব্‌ন আউফ-এর মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু লোকসহ তাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য বের হলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে কাজে আটকা পড়লেন। ইত্যবসরে আসরের সময় হলো। বিলাল (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট এসে বললেনঃ হে আবূ বকর (রাঃ)! রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো আটকা পড়েছেন, আর এদিকে সালাতের সময় হয়েছে। আপনি কি লোকদের ইমাম হবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি তুমি ইচ্ছা কর! তখন বিলাল (রাঃ) ইকামত বললেন আর আবূ বকর (রাঃ) সম্মুখে অগ্রসর হলেন। তিনি লোকদের নিয়ে সালাতের তাকবীর বললেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেঁটে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর লোক (রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপস্থিতির কথা জানানোর জন্য) হাত তালি দিতে লাগলেন। আবূ বকর (রাঃ) সালাতের মধ্যে এদিকে লক্ষ্য করছিলেন না। যখন লোক এরূপ বারবার করতে লাগলেন তখন তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপস্থিত। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ইঙ্গিতে সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন। আবূ বকর (রাঃ) তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং পেছনে সরে আসলেন এবং সালাতের কাতারে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্মুখে অগ্রসর হয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাত শেষ করে লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কি হলো যে, সালাতে কোন সমস্যা দেখা দিলে তোমরা হাত তালি দিতে আরম্ভ কর? হাত তালী দেওয়া তো নারীদের জন্য। সালাতে কারো কোন সমস্যা দেখা দিলে সে যেন সুবহানাল্লাহ বলে। কেননা সুবহানাল্লাহ বলতে শুনলে সকলেই তার দিকে লক্ষ্য করবে। (তারপর তিনি বললেনঃ) হে আবূ বকর! আমি যখন তোমার প্রতি ইঙ্গিত করলাম তখন সালাত আদায় করা থেকে তোমাকে কোন্‌ বস্তু বিরত রাখলো? আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে আবূ কুহাফার পুত্রের ইমামতি করা শোভা পায় না।

অধীনস্তের পেছনে শাসকের সালাত আদায় করা

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশেষ যে সালাত লোকের সাথে জামা’আতে আদায় করেন তা ছিল আবূ বকর (রাঃ)-এর পেছনে। তিনি এক কাপড়ে সালাত আদায় করেছিলেন এবং বিপরীত দিক হতে কাঁধের ওপর কাপড় পরে বুকের ওপর এর দু’প্রান্তে গিঁট দিয়ে নিয়েছিলেন।

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবূ বকর (রাঃ) লোকের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন আর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন তাঁর পেছনের কাতারে।

যিয়ারতকারীর ইমামতি

মালিক ইব্‌ন হুয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যখন তোমাদের কেউ কোন দলের সাক্ষাতের জন্য যায়, তখন সে যেন তাদের ইমামতি না করে।

অন্ধের ইমামতি

মাহমূদ ইব্‌ন রবী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইতবান ইব্‌ন মালিক (রাঃ) তাঁর দলের লোকের ইমামতি করতেন আর তিনি ছিলেন অন্ধ। তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেনঃ অনেক সময় অন্ধকার, বৃষ্টি এবং বন্যা হয়, আর আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি। অতএব ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ ! আপনি আমার বাড়িতে একস্থানে একবার সালাত আদায় করুন। আমি ঐ স্থানটি সালাতের জন্য নির্ধারণ করে নেব। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাড়িতে আগমন করে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমার কোথায় সালাত আদায় করাকে তুমি পছন্দ কর? তখন তিনি তাঁর ঘরের একটা জায়গা দেখিয়ে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে সালাত আদায় করলেন।

বালেগ হওয়ার পূর্বে ইমামতি

আমর ইব্‌ন সালামা জিরমী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমাদের নিকট আরোহী যাত্রীগণ আসতেন, আমরা তাঁদের নিকট কুরআন শিক্ষা করতাম। আমার পিতা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যে কুরআন বেশী জানে, সেই ইমামত করবে। আমার পিতা এসে বললেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে বেশী কুরআন জানে, সেই ইমামত করবে। তারা দেখলেন, আমি কুরআন অধিক জানি, তখন আমিই তাদের ইমামত করতাম আর তখন আমি ছিলাম আট বছরের বালক।

ইমামকে দেখলে দাঁড়ানো

আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যখন সালাতের আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।

ইকামতের পর ইমামের কোন প্রয়োজন দেখা দিলে

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ সালাতের ইকামত বলা হলো আর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তির সাথে একান্তে কথা বলেছিলেন। তারপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন না, যতক্ষণ না লোকেরা ঘুমিয়ে পড়ল। [১]

[১] বিশেষ জরুরী কাজের জন্য রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করেছিলেন কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে এরূপ করা যে জায়েয, তা বুঝানোর জন্য তিনি এরূপ করেছিলেন।মুসাল্লায় দাঁড়ানোর পর ইমামের স্মরণ হলো, তিনি পবিত্র নন

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ সালাতের ইকামত বলা হলো, লোক তাদের কাতার ঠিক করল। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন, যখন তিনি তাঁর মুসাল্লায় দাঁড়ালেন, তখন তাঁর স্মরণ হলো, তিনি গোসল করেন নি। তখন তিনি লোকদের বললেন, তোমরা তোমাদের জায়গায় থাক। তারপর তিনি ঘরে গেলেন। পরে বের হলেন, তখন তাঁর মাথা থেকে পানি বেয়ে পড়ছিল। তিনি গোসল করলেন, তখন আমরা কাতারে ছিলাম।

ইমাম অনুপস্থিত থাকলে স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করা

সাহল ইব্‌ন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে, বনূ আমর ইব্‌ন আউফ-এর মধ্যে মারামারি হচ্ছিল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছলো। তিনি যোহরের সালাত আদায় করে তাদের মধ্যে আপস করে দেবার জন্য তাদের নিকট গেলেন। তিনি বিলাল (রাঃ)-কে বললেন, বিলাল ! যদি আসরের সালাতের সময় হয় আর আমি আসতে না পারি তবে আবূ বকর (রাঃ)-কে বলবে সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। যখন সালাতের সময় উপস্থিত হলো তখন বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। তারপর ইকামত বললেন এবং আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন, সামনে যান। তখন আবূ বকর (রাঃ) সামনে গিয়ে সালাত আরম্ভ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগমন করলেন এবং লোকদের কাতারের মধ্য দিয়ে এসে আবূ বকরের পেছনে দাঁড়ালেন। লোকজন হাততালি দিয়ে ইংগিত করলেন। আর আবূ বকর (রাঃ) সালাতে দাঁড়ালে কোনদিকে লক্ষ্য করতেন না। যখন তিনি দেখলেন তাদের হাততালি বন্ধ হচ্ছে না, তখন তিনি লক্ষ্য করলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিজ হাত দ্বারা ইঙ্গিত করলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতের জন্য তিনি আল্লাহর শোকর আদায় করলেন। তারপর আবূ বকর (রাঃ) পেছনে সরে আসলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখে সম্মুখে অগ্রসর হলেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন সালাত শেষ করলেন তখন তিনি বললেনঃ হে আবূ বকর ! আমি যখন তোমাকে ইঙ্গিত করলাম, তখন তুমি পিছে সরে আসা থেকে কেন বিরত থাকলে না ? তিনি বললেনঃ আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইমামত করা শোভা পায় না। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের বললেনঃ যখন তোমাদের কোন সমস্যা দেখা দেয়, তখন পুরুষরা সুবহানাল্লাহ বলবে আর মহিলারা হাততালি দিবে।

ইমামের অনুসরণ করা

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(একদা) রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়া থেকে ডানদিকে পড়ে গেলেন। লোক তাঁকে দেখতে (তাঁর ঘরে) প্রবেশ করল। ইতিমধ্যে সালাতের সময় উপস্থিত হল। তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ ইমাম বানানো হয় তার অনুসরণ করার জন্য। যখন তিনি রুকূ করেন, তখন তোমরাও রুকূ করবে। আর যখন মাথা উঠান, তোমরাও মাথা উঠাবে আর যখন সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করবে। আর যখন ইমাম সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বলেন, তখন তোমরা বলবে রাব্বানা লাকাল্‌ হাম্‌দ।

যে ইমামের অনুসরণ করেছে তার অনুসরণ করা

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের মধ্যে পেছনে থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা সামনে এগিয়ে আস এবং আমার সাথে ইকতিদা কর। আর তোমাদের পরবর্তীগণ তোমাদের ইকতিদা করবে। কোন সম্প্রদায় সর্বদা পেছনে থাকলে, পরিশেষে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে পিছিয়েই রাখেন।

আবূ নাযরা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণিত রয়েছে।

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর (রাঃ)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন। তিনি বলেনঃ তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন আবূ বকর (রাঃ)-এর সামনে। তিনি বসে সালাত আদায় করলেন। আর আবূ বকর (রাঃ) লোকদের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন। লোকজন ছিল আবূ বকর (রাঃ)-এর পেছনে।

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ইমাম হয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন তখন আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন তাঁর পেছনে। যখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবীর বলতেন তখন আবূ বকর (রাঃ)-ও আমাদেরকে শোনাবার জন্য তাকবীর বলতেন।

তিনজন মুসল্লী হলে ইমামের স্থান এবং ব্যাপারে মতভেদ

আলকামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেনঃ আমরা দ্বিপ্রহরে আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, অচিরেই এমন নেতা আবির্ভূত হবে যারা যথাসময়ে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকবে। অতএব তোমরা যথাসময়ে সালাত আদায় করবে। তারপর তিনি আমার এবং তাঁর (আলকামা) মধ্যে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এবং বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরূপ করতে দেখেছি। [১]

[১] সম্ভবত রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্থান সংকীর্ণ হওয়ার কারণে কোন কোন সময় এরূপ করেছিলেন কিংবা এই হাদীস পরবর্তীতে রহিত হয়ে গেছে।

বুরায়দা ইব্‌ন সুফিয়ান ইব্‌ন ফরওয়াতুল আসলামী থেকে বর্ণিতঃ

যার নাম ছিল মাসঊদ। তিনি বলেনঃ আমার নিকট রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবূ বকর (রাঃ) আগমন করলেন। আবূ বকর (রাঃ) আমাকে বললেন, হে মাসঊদ ! আবূ তামীমের নিকট যাও অর্থাৎ তাঁর মনিব-এর নিকট এবং তাকে বল, সে যেন আমাদের জন্য উটের সওয়ারীর ব্যবস্থা করে, আমাদের জন্য কিছু সামান ও একজন পথপ্রদর্শক পাঠায় যে আমাদের পথ দেখাবে। আমি আমার মালিকের নিকট গিয়ে এ সংবাদ দিলাম। তিনি আমার সাথে একটি উট ও এক মশক দুধ পাঠিয়ে দিলেন। আমি তাঁদের নিরিবিলি স্থানে নিয়ে গেলাম, এমতাবস্থায় সালাতের সময় হলো। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতে দাঁড়ালেন আর আবূ বকর (রাঃ) তাঁর ডানদিকে দাঁড়ালেন। আমি ইসলাম সম্বন্ধে জানতাম। আমিও তাঁদের সঙ্গে সালাতে শরীক হলাম। অতএব আমি তাঁদের পেছনে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর (রাঃ)–এর বক্ষে হাত রেখে তাঁকে পেছনে সরিয়ে দিলেন। আমরা তখন তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম।

আবূ আবদুর রাহমান বলেনঃ এই বুরায়দা হাদীস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নন।

তিনজন পুরুষ একজন মহিলা হলে

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর দাদী মুলায়কা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর জন্য খানা তৈরি করে তাঁকে দাওয়াত করলেন। তিনি তা খেলেন। তারপর বললেনঃ তোমরা ওঠ। আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। আনাস (রাঃ) বলেন, অতএব আমি আমাদের একখানা চাটাই ছিল তা আনতে গেলাম। যা বহুল ব্যবহারে কাল হয়ে গিয়েছিল। আমি তাতে পানি ছিটালাম। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতে দাঁড়ালেন। আমি এবং ইয়াতীম তাঁর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম আর বৃদ্ধা আমাদের পেছনে। তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাক’আত সালাত আদায় করে (ঘরে) ফিরে গেলেন।

দুজন পুরুষ দুজন মহিলা হলে

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট আসলেন আর তখন আমি, আমার মা, ইয়াতীম এবং আমার খালা উম্মে হারাম ব্যতীত আর কেউ ছিল না। তিনি বললেনঃ তোমরা দাঁড়াও, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। আনাস (রাঃ) বলেনঃ তখন (পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মধ্য হতে কোন) সালাতের সময় ছিল না। তিনি বলেনঃ তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন (অর্থাৎ বরকতের জন্য নফল সালাত আদায় করলেন)।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর মা এবং খালা এক জায়গায় ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করলেন। আনাস (রাঃ)-কে তাঁর ডানদিকে রাখলেন। তাঁর মা ও খালাকে উভয়ের পেছনে দাঁড় করালেন।

ইমামের সাথে শিশু এবং নারী থাকলে ইমামের স্থান

ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। তখন আয়েশা (রাঃ) আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করেন। আর আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে সালাত আদায় করি।

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এবং আমার পরিবারের এক মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি আমাকে দাঁড় করালেন তাঁর ডানদিকে আর মহিলা ছিলেন আমাদের পেছনে।