আকীকা

আমর ইব্‌ন শুআয়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর পিতার মাধ্যমে, তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আকীকা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ্‌ তা‘আলা মাতাপিতার অবাধ্যতাকে পছন্দ করেন না, যেন তিনি এই (আকীকা) [১] নামকে অপছন্দ করলেন ঐ ব্যক্তি আরয করলোঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি আপনার নিকট জিজ্ঞাসা করছি, কারো সন্তান হলে সন্তানের পক্ষ হতে যা যবেহ করা হয় সেই বিষয়ে। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি স্বীয় সন্তানের পক্ষ হতে যবেহ করতে ইচ্ছে করে, সে যেন ছেলে সন্তানের পক্ষ হতে দু’টি বকরী যবেহ করে একই ধরনের এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ হতে একটি বকরী যবেহ করে। রাবী দাউদ (রহঃ) বলেনঃ আমি যায়দ ইব্‌ন আসলাম (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, এক প্রকার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ দেখতে যেন একই প্রকার হয়, একত্রে যবেহ করা হয়।

কেননা এরই যমধাতু হতে উৎপন্ন ‘উকুক’-এর অর্থ পিতাপাতার অবাধ্যতা করা। কিন্তু বহু হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক এ নামের ব্যবহার পাওয়া যায়। কাজেই বলতে হবে, এ অপছন্দ করার বিষয়টি রাবীর ধারনা। খুব সম্ভবত মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ স্থলে পিতামাতার অবাধ্যতার কথাটি তুলেছেন প্রসঙ্গক্রমে, যেহেতু উভয় শব্দ একই ধাতু হতে উৎপন্ন হয় এবং বিশেষত এ কারনে যে, ‘আকীকা সাধারনত পিতামাতাই দিয়ে থাকে।

বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরত হাসান এবং হুসায়নের পক্ষে আকীকা করেন।

পুত্র সন্তানের আকীকা

সালমান ইব্‌ন আমের যাব্বী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে আকীকা আছে। কাজেই তার জন্য যবেহ করবে এবং তার মাথা মুণ্ডন করবে

উম্মে কুরয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পুত্র সন্তানের জন্য দু’টি বকরী যা একই প্রকার হবে এবং কন্যা সন্তানের জন্য একটি বকরী যবেহ করতে হবে।

কন্যা সন্তানের আকীকা

উম্মে কুরয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ছেলে সন্তানের আকীকায় দু’টি বকরী একই রকমের, কন্যা সন্তানের আকীকায় একটি বকরী যবেহ করতে হবে।

কন্যা সন্তানের পক্ষ হতে কয়টি বকরী কুরবানী করতে হবে

উম্মে কুরয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি হুদায়বিয়ায় রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কুরবানীর জন্তুর গোশত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করার জন্য উপস্থিত হই। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনিঃ পুত্র সন্তানের পক্ষ হতে আকীকার জন্য দু’টি বকরী, আর কন্যা সন্তানের জন্য একটি বকরী তা নর হোক বা মাদী, যবেহ করতে হবে।

উম্মে কুরয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পুত্র সন্তানের জন্য দু’টি বকরী এবং কন্যা সন্তানের জন্য একটি বকরী যবেহ করতে হবে, তা নর হোক বা মাদী।

ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসান এবং হুসায়নের আকীকায় দু’টি করে বকরী যবেহ করেন।

আকীকা কখন করতে হবে

সামুরা ইব্‌ন জুনদুব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ প্রত্যেক সন্তান স্বীয় আকীকার সাথে আবদ্ধ। তার পক্ষ হতে তা তার জন্মের সপ্তম দিনে যবেহ করতে হবে। সেদিন তার মাথা মুণ্ডন করতে হবে এবং তার নাম রাখতে হবে।

হাবীব ইব্‌ন শাহীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমাকে মুহাম্মদ ইব্‌ন সীরীন (রহঃ) বললেন, তুমি হাসান (রাঃ)-এর নিকট আকীকার হাদীস সমন্ধে জিজ্ঞাসা কর যে, তিনি তা কার নিকট শুনেছেন? আমি তাঁকে এ ব্যপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ আমি তা সামুরা (রাঃ) থেকে শুনেছি।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস