হাদিসের ও আসারের আলোকে যিলহজ্ব মাস || গুরুত্ব ফজিলত ও আমল || Bangla Hadis

আসমান- যমীনের সৃষ্টি অবধি আল্লাহ তায়ালা বছরকে বার মাসে বিভক্ত করেছেন।এটি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। পৃথিবির সৃষ্টি থেকে এটিই আল্লাহর নিয়ম। এর মধ্য থেকে আল্লাহ চারটি মাসকে করেছেন সম্মানিত ও মহিমান্বিত। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মাসসমূহের গণনা আল্লাহ তায়ালার নিকট তার বিধান মতে বারটি। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। -সূরা তাওবা (৯):৩৬

হাদিস শরীফে এরশাদ হয়েছে-
নিশ্চয় সময়ের হিসাব যথাস্থানে ফিরে এসেছে, আসমান- যমীনের সৃষ্টির সময় যেমন ছিল।(কারণ, আরবরা মাস-বছরের হিসাব কম-বেশি করে ফেলেছিল)। বার মাসে এক বছর। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত।তিনটি মাস ধারাবাহিক-যিলকদ ,যিলহজ্ব, মুর্হারম।আরেকটি হল রজব, যা জুমাদাল আখিরাহ ও শাবানের মাঝের মাস। -সহীহ বুখারী, হাদিস ৪৬৬২

যিলহজ্ব: সম্মানিত চার মাসের শ্রেষ্ঠ মাস
এ চার মাসের মধ্যে যিলহজ্ব মাসের ফজীলত সবচেয়ে বেশি।কারণ, এ মাসেই আদায় করা হয় ইসলামের অন্যতম প্রধান রোকন ও নিদর্শন হজ¦ এবং অপর নিদর্শন ও মহান আমল কুরবানী।

ইবরাহীমী ঈমান ও সমর্পণে উজ্জীবিত হওয়ার মাস
এ মাসে আমরা আদায় করি হজ্ব ও কুরবানী। আর এ দুই আমল ধারণ করে আছে ইবরাহীম আ:- এর ঈমান ও সমর্পণের বহু নিদর্শন। শিরক ও মুশরিকদের থেকে চির বিচ্ছিন্নতা ঘোষণা করা এবং আল্লাহর নির্দেমের সামনে সমর্পিতচিত্তে নিজ সন্তানকে কুরবানী করতে উদ্যত হওয়া এবং জনমানবহীন মরু প্রান্তরে স্ত্রী-সন্তানকে রেখে য়াওয়ার কঠিন পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া- এ সবই ছিল ইবরাহীম আ:- এর দৃঢ় ঈমান ও নিঃশর্ত সমর্পণের প্রকষ্ট প্রমাণ। তাইতো আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন- তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার অনুসারীদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত কর তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের ( আকীদা- বিশ্বাস) অস্বীকার করি। আমাদের ও তোমাদের মাঝে চিরকালের জন্য শত্রæতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়ে গেছে। যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনবে। -সূরা মুমতাহিনা (৬০):৪

এটাকেই বলে, ‘আলহুব্বু ফিল্লাহ ওয়ল বুগযু ফিল্লাহ’-আল্লাহর জন্যই ভালবাস্ স্থাপন, আল্লাহর জন্যই বিদ্বেষ পোষণ। ভালবাসা ও বিদ্বেষ পোষণের মানদ হলো ঈমান। এর মাধ্যমেই ঈমানের পূর্ণতা পায়। হাদিস শরীফে এরশাদ হয়েছে- যে আল্লাহর জন্য (অন্যকে) ভালবাসে, আল্লাহর জন্যই (কারো সাথে ) বিদ্বেষ পোষণ করে,(কাউকে কিছু দিলে ) আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই দেয়, অর কাউকে কিছু দেওয়া থেকে বিরত থাকলে সেটাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করে, সে স্বীয় ঈমানকে পূর্ণ করলো। – সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৬৮১

আর আল্লাহর হুকুমের সামনে সমর্পনের যে আদর্শ ইবরাহীম আ: আমাদের জন্য রেখে গেছেন সে বিষয়েই ইরশাদ হয়েছে- [ (স্বরণ করুন,) যখন ইবরাহীমের রব তাকে বললেন, আত্মসমর্পণ কর, সে বলল, জগৎসমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।] -সূরা বাকারা(২):১৩১

আর ইবরাহীম আ: -এর এ সমর্পণের সবচেয়ে বড় পরিক্ষা ছিল,আল্লাহর হুকুমে নিজ সন্তানকে কুরবানী করতে উদ্যত হওয়া। এ পরিক্ষায় তিনি ও তার সস্তান আল্লাহর ইচ্ছার সামনে সমর্পণের যে পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন সেটিই কুরআনে বিবৃত হয়েছে এভাবে- অতপর সে (ইসমাইল) যখন তার পিতার সাথে কাজ করার মত বয়সে উপনিত হল তখন ইবরাহীম বলল, বৎস! আমি সপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবেহ করছি। এখন তোমার অভিমত কী বল! সে বলল, হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। ইনশাআল্লাহ! আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। অতপর যখন তারা (পিতাপুত্র) দুজনই (আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছার সামনে ) আত্মসমর্পণ করল এবং ইবরাহীম তাকে কাত করে শুইয়ে দিল। তখন আমি তাকে ডাক দিয়ে বললাম,হে ইবরাহীম! নিশ্চয় আমি সৎকর্মশীলদের এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরিক্ষা। আমি তাকে (ইসমাইলকে) মুক্ত করলাম এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে। সূরা সাফফাত(৩৭):১০২-১০৭